প্রকাশিত: ০৭/১২/২০১৭ ৭:৪৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১০:০১ এএম

নিউজ ডেস্ক:
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন বাজারে ব্যাঙের ছাতার মত ঔষুধের দোকান ও প্যাথলজির ব্যবসার নামে চলছে অপচিকিৎসা। কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজার কেন্দ্রিক ঔষুধের দোকান খুলে স্থানীয় পরিচয়ে ডাক্তারী চিকিৎসা করছে এখন অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গারা। কুতুপালং বাজারের অলিতে গলিতে অবৈধ ভাবে ঔষুধের ফার্মেসী খুলে রোহিঙ্গারা নিজেদের বাংলাদেশী সেঁজে ভূঁয়া পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এতে প্রতারিত হয়ে স্বাস্থ্য হানিতে পড়েছে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় কুতুপালং গ্রামসহ কয়েকটি আশে-পাশে গ্রামের লোকজন।

এসবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারী এবং দেখ ভাল না থাকায় এখন রোহিঙ্গারা স্থানীয় দাবী করে বিভিন্ন চলচাতুরী আশ্রয় নিয়ে ও জাল সনদ তৈরি করে নিজেদের নামের আগে চিকিৎসা পত্রের প্যাডে ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে ডাক্তার লিখে অবাধে ঔষুধ বিক্রি করে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ রোহিঙ্গা ডাক্তারেরা দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামে বেনামে ট্রেডস লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ নিয়ে এবং অন্যজনের নামে থাকা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের ডিপ্লোমা সনদ এলএমএএফ, ডিএমএডি, এমএফ, আরএমপি সনদ এবং ভূঁয়া সনদ বানিয়ে ডাক্তারী নামের এই মহা মানবসেবা মূলক পেশাকে কলংকিত করছে এমন অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।

এসব ভূঁয়া চিকিৎকরা আনতাজ করে ও মনগড়াভাবে ঔষুধ লিখে রোগীদের হাতে চিকিৎসা পত্র তুলে দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন নি¤œমানের মেডিসিন ধরিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, শিশুসহ এলাকার মানুষের হাতে। এসব অপচিকিৎসার ফলে শরীরের উল্টো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে নিরহ অসচেতন লোকজন। বার্মাইয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ও ঔষুধের দোকান গুলো সরজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবী জানিয়েছেন উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক যেসব অশিক্ষিত ভূঁয়া রোহিঙ্গা ডাক্তার ও আনাড়ি চিকিৎসকরা যত্রতত্র দোকান খুলে চিকিৎসার নামে ভূল চিকিৎসা করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে কুতুপালং বাজারে যেসব ভূঁয়া রোহিঙ্গা ডাক্তারের হদিস পাওয়া গেছে তারা হল, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসের দক্ষিণে পুলিশ ব্র্যাকের পেছনে ডাক্তার খোরশেদ আলমের ফার্মেসী, প্রধান সড়কের ব্রীজের কোনায় ডাক্তার সেলিমের ফার্মেসী, ক্যাম্প ইনচার্জ অফিস সংলগ্ন সড়কে ডাক্তার জিয়াবুল হক, প্রকাশ ইয়াবা জিয়াবুলের পীর আউলিয়া ফার্মেসী, ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসে যাওয়ার সড়কে ডাক্তার ডিপু জাফরের বোরহান ফার্মেসী, এই বার্মাইয়া ডিপু জাফর সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে মুর্তি পাচারের সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। প্রধান সড়কের পূর্ব পাশে ডাক্তার নুরুল আমিনের আকবর ফার্মেসী, প্রধান সড়কের রাস্তার পূর্ব পাশে এডভোকেট ছমি উদ্দিনের মালিকানাধীন দোকানে ডাক্তার জয়নালের বিউটি ফার্মেসী, সে ইতিমধ্যে বাংলাদেশী সেজে আইডি কার্ড বানিয়েছে, কুতুপালং ক্যাম্পের পুলিশ ব্যারাকের পেছনে ডাক্তার ইয়াছিনের মনজুর ফার্মেসী। এধরনের অসংখ্যা ফার্মেসী খুলে বার্মাইয়ারা ঔষুধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বেআইনি ভাবে।

এসব অজ্ঞ ডাক্তারেরা চিকিৎসার নামে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত নি¤œ মানের ইত্যাদি ঔষুধ। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী নতুন-পুরাতন আশ্রিত রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন চিকিৎসার নামে ডাক্তার দাবী করে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে রাত-দিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কথিত ভূঁইফোড় ডাক্তারেরা।

গতকাল বুধবার ৬ ডিসেম্বর সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে কুতুপালং বাজারে ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত শতাধিক ঔষুধের দোকান রয়েছে নামে বেনামে। প্রায় ৫০ টির মত ফার্মেসীতে ঔষুধ বিক্রি ও চিকিৎসা করছেন বাংলাদেশী সেঁজে কথিত রোহিঙ্গা ডাক্তারেরা। এসব ফার্মেসীর হদিস মিলে কুতুপালং ক্যাম্পের চর্তুর পাশে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান রবিন চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, কুতুপালং বাজারসহ ক্যাম্পের ভিতরে বাইরে ও ঔষুধের দোকান খুলে যারা নিজেদের ডাক্তার দাবীকরে ভূঁয়া কাগজপত্র নিয়ে ঔষুধ বিক্রি করছে তাদের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে অনেক রোহিঙ্গার মধ্যে এইডস রোগ পাওয়া গেছে। সুতরাং রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছি। আর ফার্মেসী খুলে অনেকেই একটা ইনজেকশনের সিরিজ ২-৩ বার ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। আগামী মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব ভূঁয়া ডাক্তার ও ফার্মেসীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, কুতুপালং বাজারে যারা অবৈধ ভাবে যেসব ফার্মেসী ও প্যাথলজি সেন্টার খুলে রোহিঙ্গারা স্থানীয় ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসার নামে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য হানি ঘটাচ্ছে সে ব্যাপারে অতি দ্রুত ড্রাগ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্বনয়ে প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব। সুত্র: সিএসবি

পাঠকের মতামত

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টারোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর

রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ...

টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম হত্যা: ট্রাইব্যুনালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ-বদি

কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন ...

অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ...

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে তৃণমূলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ...

ক্যাম্পের শিশুদেরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রাখার আহ্বান শামা ওবায়েদের

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান ...

অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী

অক্টোবরে মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম ...

লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, বাতিল চায় হেফাজতে ইসলাম

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ...
Single Page Footer